শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১০

কেন্দ্রবিন্দু হতে দূরে

আমরা মানবজীবনে যা কিছুই করি এর পেছনে কোনো না কোনো কেন্দ্রবিন্দু থাকে। এই কেন্দ্রবিন্দুকে কেন্দ্র করেই মানবজীবন আবর্তিত হয়। এই আবর্তনের জন্যই আমরা করেছিলাম মুক্তিযুদ্ধ। এই মুক্তিযুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল অনেক প্রত্যাশা। সোনালী স্বপ্নে বিভোর হয়েই মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগ করেছিল এদেশের আপামর জনতা। তারা এই প্রত্যাশা করেই নেমেছিল যে, আমরা না বাঁচলেও আমাদের প্রজন্ম একটি স্বাধীন,সার্বভৌম রাষ্ট্রে বাস করবে। তাদের এ স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে বটে কিন্তু অন্যান্য স্বপ্নগুলোও কি বাস্তবায়িত হয়েছে? তারা কি শুধু স্বাধীন,সার্বভৌম রাষ্ট্রই কামনা করেছিল? তা না করলে তাদের স্বপ্নগুলো কি ছিল? তাদের স্বপ্নগুলো কি ছিল কোনো যুদ্ধাপরাধী এদেশে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়া? স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরও তাদের এই স্বাধীন,সার্বভৌম দেশে বিচার না হওয়া? শুধু একুশে ফেব্রুয়ারী, ২৬ই মার্চ, ১৬ই ডিসেম্বর এই দিনগুলোর মাঝেই কি স্বাধীনতার চেতনা বিদ্যমান? আর এই দিনগুলোর মাঝেই কি নিজেকে দেশপ্রেমিক বলে পরিচয় দেয়া তথা অগ্নিঝড়া বক্তৃতা আর সবাইকে ব্যঙ্গ করে সবার নাকে, মুখে, চোখে ধূলো দিয়ে রাষ্ট্রিয় সম্পদ হরণ করা? এই কি ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা? এই কি আমাদের জাগ্রত বিবেকের নমুনা?


“হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-লালসা
করেছে হৃদয় হরণ
তাইতো তাদের স্বপ্নের কথা
হয়না আমাদের স্মরণ;
তাদের ত্যাগ তিতিক্ষার কথা
এখনো হয়নি হৃদয়ে গাঁথা।"

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন