মানুষ যখন পৃথিবীতে অবতরণ করল তখন থেকেই সভ্যতার শুরু হতে লাগল। ঘটতে লাগল জীবন ও প্রকৃতির পরিবর্তন। এই পরিবর্তন কখনো ডেকে এনেছে ধ্বংস, আবার কখনো ডেকে এনেছে অপার সম্ভাবনার দোয়ার। সময়ের বিবর্তনে পূর্বে যারা ছিল তাদেরকে আদিম মানব ও বর্তমানে যারা আছি তাদেরকে আমরা আধুনিক মানব বলি। এই "পূর্ব ও বর্তমান" এ দু'টি কথার মধ্যে যেমন পার্থক্য রয়েছে তেমনি জীবনমানের মধ্যেও ব্যাপক পার্থক্য বিদ্যমান। আদি মানুষেরা গাছের ফল, পাতা ও বিভিন্ন প্রাণীর মাংস খেয়ে জীবন ধারণ করত। থাকত খোলা আকাশের নীচে, পাহাড়ের গোহায়। ফলমূলের পাশাপাশি তাদের জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজন পড়ত বিভিন্ন প্রাণী শিকার করার। এই প্রয়োজনবোধে তারা তৈরী করেছিল বিভিন্ন অস্ত্র। শুধু শিকার করার জন্যই নয়, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যও প্রয়োজন পড়ত এসব অস্ত্রের। কালক্রমে তাদের মধ্যে জীবনবোধ বাড়তে লাগল। তারা এগিয়ে যেতে লাগলো আরও উন্নতির পথে। এক পর্যায়ে তারা বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধভাবে গড়ে তুলে জনপদ। নির্মাণ করে ঘর ও তৈরী করে প্রয়োজনীয় আরো আনুষাঙ্গিক অনেক কিছু। একে একে তৈরী করতে লাগল বিভিন্ন ইমারত। পাহাড় কেটে তৈরী করতে লাগল বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি। তাদের এসব আবিষ্কার প্রকৃতির পরিবর্তন করেছিল। ফলে নেমে এসেছিল প্রাকৃতিক বিপর্যয়। ধ্বংস হয়েছিল অনেক কিছু। ঠিক সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ও চলছে বিভিন্ন আবিষ্কার। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে আরো ভয়াবহভাবে প্রাকৃতিক পরিবর্তন। আর ভয়াবহভাবে আমাদের ওপর ও নেমে আসছে প্রকৃতিক বিপর্যয়। প্রাচীন মানুষেরা অস্ত্র তৈরী করেছিল তাদের জীবন ধারণ ও জীবন রক্ষার্থে কিন্তু বর্তমানে আমরা কেন এতো মরণাস্ত্র তৈরী করছি? বর্তমান মানুষের মানবতা তো বেশী থাকার কথা কিন্তু কেন তারা এতো মানবতাহীন? তবে কেন আমরা সভ্যতার আস্ফালনে দাবি করে বলে উঠি হা-হতোস্মি?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন