বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১০

তোমার চলে যাওয়াটা উচিৎ হয়নি

আজ রাত একটায় তুমি চলে গেলে।
আমরা কিছু বুঝে উঠার আগেই
তোমার রিষ্টপুষ্ট, সুঠাম দেহটা
ভূমিকম্পে ধ্বসে যাওয়া কোন ইমারতের মতো
লুটিয়ে পড়ল শক্ত মৃত্তিকার বুকে।
তারপর আমারা তোমার, শুধু তোমার
লুঠিয়ে পড়া নিষ্প্রভ দেহকে স্পর্শ করলাম,
হৃদপিণ্ডের কম্পন অনুভব করতে চাইলাম;
অতঃপর আমরা বুঝতে পারলাম
তুমি অভিমানে, নিভৃতে চলে গেলে।
আর সহসা আমাদের চোখের সামনে ফিরে আসতে লাগলো-
তোমার প্রণবন্ত কৌতুকালাপ, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি।
বয়সের তারতম্য ভুলে গিয়ে কিভাবে তুমি মেতে উঠতে
আমাদের সাথে হরেক খেলায়।
কিন্তু আজ তোমার সেই নিথর দেহটা আমাদেরই চোখের সামনে।
এভাবে তোমার চলে যাওয়াটা উচিৎ হয় নি...
একটা কচ্চপের আয়ুর তুলনায়
তুমিতো আরো কিছুদিন বাঁচতে পারতে?
না, আমরা তোমার এই চলে যাওয়াটাকে মেনে নিতে পারছি না
তুমি তো কোন তস্কর, মাতাল কিংবা জুয়ারী ছিলে না,
তবে তুমি কেন এতো শীঘ্রই চলে গেলে?
তুমি জানতে বিংশ শতাব্দীতে মানুষের শোকের আয়ু বড়জোড় এক বছর।
কিন্তু তুমি এও জেনে রাখো-
তুমি বেঁচে থাকবে আমাদের স্মৃতিতে
অন্তত আট হাজার সাতশত ষাট ঘন্টার চেয়ে বেশী।
আমারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না, পারছি না;
তোমার এভাবে চলে যাওয়াটা উচিৎ হয়নি, উচিৎ হয়নি, উচিৎ হয়নি....।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন