প্রথম আলো - এক মুঠো পরামর্শ
Posted using ShareThis
শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১০
বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১০
হয়তো হয়ে গেছি কচুরিপানা
হয়তো হয়ে গেছি কোন কচুরিপানা
যে কচুরিপানারা ভেসে আসে সুনিপুণ বন্যায়।
ভয়ঙ্কর ছোঁবলের সাক্ষী হয় যে কচুরিপানা
চঞ্চল শিশু কেটে টুকরো টুকরো করে যে কচুরিপানা
অজান্তেই ছোট্ট জলাশয়ে আবদ্ধ হয় যে কচুরিপানা
আমি হয়তো সেই কচুরিপানার চেয়ে বেশী কিছু নই।
গলিত আবর্জনার স্তুপ এসে ভীড় জমায়
প্রতিক্ষণ, প্রতিদিন, প্রতি মাস...
আবদ্ধ জলাশয়েই স্থায়ী হয় জীবনচক্র;
যৌবন আসে, পুষ্প ফোঁটে, প্রজাপতি আসে
ইচ্ছেমতো সৌন্দর্য অবলোকন করে, চুমো খায়
আর নির্জীব হলেই চলে যায়...
আমি হয়তো সেই কচুরিপানার চেয়ে বেশী কিছু নই।
যে কচুরিপানারা প্রতিক্ষায় থাকে-
মেঘে অন্ধকারময় বিস্তৃত আকাশের
ধেয়ে আসা মাতাল পবনের
অঝর ধারায় ঝড়ে পড়া বৃষ্টির
একটি শুভ্র বর্ষার...
আমি হয়তো সেই কচুরিপানার চেয়ে বেশী কিছু নই।
যে কচুরিপানারা ভেসে আসে সুনিপুণ বন্যায়।
ভয়ঙ্কর ছোঁবলের সাক্ষী হয় যে কচুরিপানা
চঞ্চল শিশু কেটে টুকরো টুকরো করে যে কচুরিপানা
অজান্তেই ছোট্ট জলাশয়ে আবদ্ধ হয় যে কচুরিপানা
আমি হয়তো সেই কচুরিপানার চেয়ে বেশী কিছু নই।
গলিত আবর্জনার স্তুপ এসে ভীড় জমায়
প্রতিক্ষণ, প্রতিদিন, প্রতি মাস...
আবদ্ধ জলাশয়েই স্থায়ী হয় জীবনচক্র;
যৌবন আসে, পুষ্প ফোঁটে, প্রজাপতি আসে
ইচ্ছেমতো সৌন্দর্য অবলোকন করে, চুমো খায়
আর নির্জীব হলেই চলে যায়...
আমি হয়তো সেই কচুরিপানার চেয়ে বেশী কিছু নই।
যে কচুরিপানারা প্রতিক্ষায় থাকে-
মেঘে অন্ধকারময় বিস্তৃত আকাশের
ধেয়ে আসা মাতাল পবনের
অঝর ধারায় ঝড়ে পড়া বৃষ্টির
একটি শুভ্র বর্ষার...
আমি হয়তো সেই কচুরিপানার চেয়ে বেশী কিছু নই।
লেবেলসমূহ:
কবিতা
রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১০
ঘৃণা ও ভালোবাসা
তীব্র ঘৃণা হতে জন্ম নেয় ভালোবাসা,
সুতীব্র ভালোবাসা হতেও জন্ম নেয় ঘৃণা।
ভালোবাসার রঙ কালো
আবার ঘৃণার রঙও কালো;
দুটোই জন্মান্ধের চোখের দৃষ্টি
কেবল ভিন্ন অনুভব।
কালো রঙের ঘৃণা শুভ্রতার দিকে
শুভ্র রঙের ভালোবাসাও কালো ঘৃণার দিকে,
শুধু দ্রুত বেড়ে উঠা, ক্ষয় হয়ে যাওয়া
স্থির দৃষ্টি, অপসৃয়মান দৃশ্য
ফেলে আসা অতীত, প্রবাহমান বর্তমান...
চিন্তার চাদরে মোড়ানো ভবিষ্যৎ।
যোগ হতে বিয়োগ, সমান, অতঃপর...
বহিত জীবন হরেক রাস্তার বাঁকে
পূর্ণতার আকুতি, সুখ ও বেদনায় মিশ্রিত হাসি।
ঘৃণা ও ভালোবাসা একে অপরের পাশাপাশি...
সুতীব্র ভালোবাসা হতেও জন্ম নেয় ঘৃণা।
ভালোবাসার রঙ কালো
আবার ঘৃণার রঙও কালো;
দুটোই জন্মান্ধের চোখের দৃষ্টি
কেবল ভিন্ন অনুভব।
কালো রঙের ঘৃণা শুভ্রতার দিকে
শুভ্র রঙের ভালোবাসাও কালো ঘৃণার দিকে,
শুধু দ্রুত বেড়ে উঠা, ক্ষয় হয়ে যাওয়া
স্থির দৃষ্টি, অপসৃয়মান দৃশ্য
ফেলে আসা অতীত, প্রবাহমান বর্তমান...
চিন্তার চাদরে মোড়ানো ভবিষ্যৎ।
যোগ হতে বিয়োগ, সমান, অতঃপর...
বহিত জীবন হরেক রাস্তার বাঁকে
পূর্ণতার আকুতি, সুখ ও বেদনায় মিশ্রিত হাসি।
ঘৃণা ও ভালোবাসা একে অপরের পাশাপাশি...
লেবেলসমূহ:
কবিতা
শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১০
একুশ এলেই আমার দেশপ্রেম জেগে উঠে
একুশ এলেই আমার দেশপ্রেম জেগে উঠে
সারাবছরের যাবতীয় কুকর্ম হতে
আমি মুক্তির পথ পেয়ে যাই;
আমার যাবতীয় দুর্নীতি আমাকে দগ্ধ করে
আর আমি পুড়ে পুড়ে হয়ে যাই বিদগ্ধ।
কালো ব্যাজ ধারণ করে আর
কণ্ঠনালীতে উচ্চারণ করে-
" আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী
আমি কি ভুলিতে পারি"
লজ্জাহীন নগ্ন পায়ের ছাপ
আমি হেঁটে হেঁটে এঁকে দিতে যাই
শহীদ মিনারের ফুলে শোভিত বেদিতে।
একুশ এলেই আমার দেশপ্রেম জেগে উঠে
আমার পাঁজরে ঘুমন্ত পশুটা ডুকরে কেঁদে উঠে
অবিরাম নিসৃত হয় বিষাক্ত লালা,
যেন একুশটি তীর হৃদয়ে গেঁথে গেলো
ফালি ফালি করে দিল হৃদপিণ্ড
মুখ দিয়ে বমি করে দেয় হৃহপিণ্ড;
হাতে উত্তেজিত মাইক্রোফোন কেঁপে উঠে
শাণিত ধ্বণিতে চারপাশ বিস্ফারিত হয়
কারণ, একুশ এলেই আমার দেশপ্রেম জেগে উঠে।
সারাবছরের যাবতীয় কুকর্ম হতে
আমি মুক্তির পথ পেয়ে যাই;
আমার যাবতীয় দুর্নীতি আমাকে দগ্ধ করে
আর আমি পুড়ে পুড়ে হয়ে যাই বিদগ্ধ।
কালো ব্যাজ ধারণ করে আর
কণ্ঠনালীতে উচ্চারণ করে-
" আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী
আমি কি ভুলিতে পারি"
লজ্জাহীন নগ্ন পায়ের ছাপ
আমি হেঁটে হেঁটে এঁকে দিতে যাই
শহীদ মিনারের ফুলে শোভিত বেদিতে।
একুশ এলেই আমার দেশপ্রেম জেগে উঠে
আমার পাঁজরে ঘুমন্ত পশুটা ডুকরে কেঁদে উঠে
অবিরাম নিসৃত হয় বিষাক্ত লালা,
যেন একুশটি তীর হৃদয়ে গেঁথে গেলো
ফালি ফালি করে দিল হৃদপিণ্ড
মুখ দিয়ে বমি করে দেয় হৃহপিণ্ড;
হাতে উত্তেজিত মাইক্রোফোন কেঁপে উঠে
শাণিত ধ্বণিতে চারপাশ বিস্ফারিত হয়
কারণ, একুশ এলেই আমার দেশপ্রেম জেগে উঠে।
লেবেলসমূহ:
কবিতা
মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১০
আমার রক্ত আমাকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে দেয়
আমার ভেতরে জলন্ত ক্রোধের আগুন
ক্রমশই উত্তপ্ত হতে থাকে
উত্তপ্ত হয় আরও, আরও, আরও...
আমি দমিয়ে রাখার চেষ্টাও করতে পারি না।
আমার ওষ্ঠে উচ্চারিত হয় তথাকথিত বুদ্ধিজীবী
গাড়ল রাজনীতিবিদ, সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক
কিস্তি টুপিওয়ালা, মন্দিরের পুরোহিত ও
সমাজতন্ত্রের ধ্বজাধারীদের ভণ্ডামির কথা;
উচ্চারিত হয় যাবতীয় অনাচারের কথা
অনায়াসেই, বীরদর্পে, স্ব-গৌরবে...।
অতঃপর দেখতে পাই আমি মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি
দেখতে পাই কেউ কেউ আমাকে ফেরাতে চাচ্ছে
তাদের শত প্রচেষ্টারা আমার দিকে ধেয়ে আসছে
কিন্তু আমি স্পষ্ট দেখি আমার রক্ত কণিকারা আমাকে...
হ্যাঁ, আমাকে পরিচালিত করছে।
দেখতে পাই শুভ্র রাস্তায় মূহুর্তের মধ্যে
উত্তপ্ত বালি কণা, কাঁটা, ছিন্ন মাথার খুলি
গলিত চোখ, ছোপ ছোপ রক্তের ছাপ।
এমন সময় হৃদপিণ্ডে হাত দিয়ে নিজের অজান্তেই চমকে উঠি!
এ কি? ঠিক আগের মতোই কম্পমান আমার হৃদপিণ্ড;
শত চেষ্টা করেও কোন তারতম্য অনুভব করতে পারি না।
আমি হাঁটতে থাকি, হাঁটতে থাকি
আকাশ হতে বজ্রের স্ফুলিঙ্গ এসে পরে
গাছপালায়, তৃণভূমে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে,
পুড়ে পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়।
আমি হাঁটতে থাকি এবং হাঁটতে থাকি...
আমার রক্ত আমাকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে দেয়
এগিয়ে দেয়, এগিয়ে দেয়...।
ক্রমশই উত্তপ্ত হতে থাকে
উত্তপ্ত হয় আরও, আরও, আরও...
আমি দমিয়ে রাখার চেষ্টাও করতে পারি না।
আমার ওষ্ঠে উচ্চারিত হয় তথাকথিত বুদ্ধিজীবী
গাড়ল রাজনীতিবিদ, সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক
কিস্তি টুপিওয়ালা, মন্দিরের পুরোহিত ও
সমাজতন্ত্রের ধ্বজাধারীদের ভণ্ডামির কথা;
উচ্চারিত হয় যাবতীয় অনাচারের কথা
অনায়াসেই, বীরদর্পে, স্ব-গৌরবে...।
অতঃপর দেখতে পাই আমি মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি
দেখতে পাই কেউ কেউ আমাকে ফেরাতে চাচ্ছে
তাদের শত প্রচেষ্টারা আমার দিকে ধেয়ে আসছে
কিন্তু আমি স্পষ্ট দেখি আমার রক্ত কণিকারা আমাকে...
হ্যাঁ, আমাকে পরিচালিত করছে।
দেখতে পাই শুভ্র রাস্তায় মূহুর্তের মধ্যে
উত্তপ্ত বালি কণা, কাঁটা, ছিন্ন মাথার খুলি
গলিত চোখ, ছোপ ছোপ রক্তের ছাপ।
এমন সময় হৃদপিণ্ডে হাত দিয়ে নিজের অজান্তেই চমকে উঠি!
এ কি? ঠিক আগের মতোই কম্পমান আমার হৃদপিণ্ড;
শত চেষ্টা করেও কোন তারতম্য অনুভব করতে পারি না।
আমি হাঁটতে থাকি, হাঁটতে থাকি
আকাশ হতে বজ্রের স্ফুলিঙ্গ এসে পরে
গাছপালায়, তৃণভূমে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে,
পুড়ে পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়।
আমি হাঁটতে থাকি এবং হাঁটতে থাকি...
আমার রক্ত আমাকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে দেয়
এগিয়ে দেয়, এগিয়ে দেয়...।
লেবেলসমূহ:
কবিতা
রবিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১০
আই লাভ ইউ মাই মাদার
“কিরে এখনো ঘুম থেকে উঠিস নি! রাতে তো পড়ার কোন চিহ্নই দেখি না। বইটা নামেমাত্র হাতে নিয়েই বিছানায় শুয়ে গুনগুন করে ঠোঁট নাড়িস। যদি বলি, কিরে পড়িস না? সাথে সাথে বলিস পড়ি; আর আসলে তুই পুরো ঘুমে। এভাবেই তো রাতটা শেষ করে দিস। তার ওপরে বেলা দশটা পর্যন্ত ঘুমাস। তোর কি খাওয়া-দাওয়া, লেখাপড়া নেই? তুই কি তোর অধ্যায়ন শেষ করে ফেলেছিস? হয়তো পড়, আর না পড়লে কাজে লেগে যা”- কথাগুলি থাকতো ভালোভাসায় পূর্ণ।
প্রত্যেকদিন মায়ের এই কথাগুলি শুনতে হতো। বিরক্তিও লাগতো। কিন্তু আমার কোন পরিবর্তন হতো না। আমার প্রাত্যহিক রুটিন সেই আগের মতোই। সকালের খাবার খেয়ে ঘুরতে বেরিয়ে যেতাম। এখানে-সেখানে আড্ডা মেরে দুপুর দুইটায় ঘরে ফিরতাম। ঘরে ফিরেই লুঙ্গি আর গামছাটা নিয়ে চলে যেতাম নদীতে। সেখানেও আবার দুই ঘন্টা আড্ডা! সেই আড্ডার মধ্যমণি ছিলাম আমি। অবশেষে গোসল করে বাড়ি ফিরতে চারটা তিরিশ মিনিট বেঁজে যেতো। এই একটু পরেই আবারো মা’র বকুনি খেতে হতো। “সবাইকে খাইয়ে আমি বসে থাকি কিন্তু তোর জন্য আমাকে খাবার নিয়ে বসে থাকতে হয়। তুই যদি একটু আগে এসে খেয়ে নিস তাহলে তো আমি একটু বিশ্রাম পাই। সারাদিনের মাঝে বিকেলে একটু বিছানায় শুতেও পারি না শুধু এই জন্য।” খাবারের পাত্রে বসেই মা’য়ের এই কথাগুলি শুনতে হতো। খাবার শেষ হলেই বলতো- “ যা এখন বইটা নিয়ে একটু বস। বেড়োবে সন্ধ্যায়।” কার কি, আমি একটু সুযোগ পেলেই...
মাঠে ফুটবল খেলে আরো ঘন্টাকয়েক আড্ডা। অতঃপর গান। রাত প্রায় আট টা বাঁজতো ঘরে ফিরতে। ঘরে ফিরেই ভাত চাইতাম। মা বলতো- “ না, এখন ভাত খেতে পারবি না; খেলেই তো ঘুমিয়ে পরিস। ভাত খাবি রাত দশ টায়। আগে পড়াটা শেষ করে নে।”
কিন্তু আমি একটু পরেই এসে খেয়ে নিতাম। রাত নয়টা হলে আম্মা রেডিওটা আমার কাছে নিয়ে আসতো রেডিও ম্যাগাজিন উত্তরণ শোনার জন্য। বলতো- “ নে, এখন উত্তরণ’টা শুনে নে।” আমি শুয়ে উত্তরণ শুনতাম। যখন শেষ হতো আমি তখন পূর্ণ ঘুমে আচ্ছন্ন। রাতের অন্ধকারে তখন নিঃস্তব্ধ জনপদ। রাত্রি শেষে কমলা রঙের সূর্যটা যখন পুব আকাশে ভেসে আসতো তখন মানুষের কোলাহলে ঘুম ভেঙে যেত। কিন্তু আমি তারপরেও শুয়ে থাকতাম।
আজ আমি তোমার সেই ভালোবাসা মিশ্রিত বকুনি, স্পর্শ হতে দূরে...। ইচ্ছে হলেই কাছে যেতে পারি না। তোমাকে আলিঙ্গন করার মতো প্রশান্তি আর কিছুতেই নেই। তোমার সাথে উন্মুক্ত আলাপন আর হয় না। সারাদিন না খেয়ে থাকলেও কারো কিছুই আসে যায় না। এখানে সবাই চলছে আপন গতিতে। কারো কোন কিছুতেই যেন খোঁজ নেবার সময় নেই। সবাই এখানে আপন রাস্তার খোঁজে পথ চলে...। তবুও অনুভূতির কারো কোন কমতি হয় না; তা কেবলই নিজ পরিমণ্ডলে।
এই অস্বস্তিকর, দূষণময় শহরেও মা তোমাকে মনে পড়ে, তোমার স্পর্শ পেতে প্রতিক্ষীত হয়ে থাকে এই দেহমূর্তি। জীবন ঘষে প্রদীপ জ্বালাতে আমি আজ তোমার কাছ থেকে দূরে...। ইচ্ছে করলেই তোমার কোলে শুতে পারি না। জেনো, দীর্ঘ দিনের সম্পর্কহীনতা শোকের তীব্রতাকে ভোঁতা করে দিলেও তোমার প্রতি অনুভূতিগুলি কেবলই সজীব হয়ে উঠে; গাঢ় হয়... অধিকতর গাঢ়। ইট পাথরের জঙ্গল হতে তোমাকে জানাই অনেক ভালোবাসা, যে ভালোবাসা কখনো ফুরিয়ে যায় না। তোমাকে ভালোবাসি সেই শৈশবের মতোই। শুধু আজই নয়, আট হাজার সাতশত ছত্রিশ ঘন্টাই তোমাকে ভালোবাসি। আই লাভ ইউ মাই মাদার, আই লাভ ইউ, আই লাভ ইউ...
প্রত্যেকদিন মায়ের এই কথাগুলি শুনতে হতো। বিরক্তিও লাগতো। কিন্তু আমার কোন পরিবর্তন হতো না। আমার প্রাত্যহিক রুটিন সেই আগের মতোই। সকালের খাবার খেয়ে ঘুরতে বেরিয়ে যেতাম। এখানে-সেখানে আড্ডা মেরে দুপুর দুইটায় ঘরে ফিরতাম। ঘরে ফিরেই লুঙ্গি আর গামছাটা নিয়ে চলে যেতাম নদীতে। সেখানেও আবার দুই ঘন্টা আড্ডা! সেই আড্ডার মধ্যমণি ছিলাম আমি। অবশেষে গোসল করে বাড়ি ফিরতে চারটা তিরিশ মিনিট বেঁজে যেতো। এই একটু পরেই আবারো মা’র বকুনি খেতে হতো। “সবাইকে খাইয়ে আমি বসে থাকি কিন্তু তোর জন্য আমাকে খাবার নিয়ে বসে থাকতে হয়। তুই যদি একটু আগে এসে খেয়ে নিস তাহলে তো আমি একটু বিশ্রাম পাই। সারাদিনের মাঝে বিকেলে একটু বিছানায় শুতেও পারি না শুধু এই জন্য।” খাবারের পাত্রে বসেই মা’য়ের এই কথাগুলি শুনতে হতো। খাবার শেষ হলেই বলতো- “ যা এখন বইটা নিয়ে একটু বস। বেড়োবে সন্ধ্যায়।” কার কি, আমি একটু সুযোগ পেলেই...
মাঠে ফুটবল খেলে আরো ঘন্টাকয়েক আড্ডা। অতঃপর গান। রাত প্রায় আট টা বাঁজতো ঘরে ফিরতে। ঘরে ফিরেই ভাত চাইতাম। মা বলতো- “ না, এখন ভাত খেতে পারবি না; খেলেই তো ঘুমিয়ে পরিস। ভাত খাবি রাত দশ টায়। আগে পড়াটা শেষ করে নে।”
কিন্তু আমি একটু পরেই এসে খেয়ে নিতাম। রাত নয়টা হলে আম্মা রেডিওটা আমার কাছে নিয়ে আসতো রেডিও ম্যাগাজিন উত্তরণ শোনার জন্য। বলতো- “ নে, এখন উত্তরণ’টা শুনে নে।” আমি শুয়ে উত্তরণ শুনতাম। যখন শেষ হতো আমি তখন পূর্ণ ঘুমে আচ্ছন্ন। রাতের অন্ধকারে তখন নিঃস্তব্ধ জনপদ। রাত্রি শেষে কমলা রঙের সূর্যটা যখন পুব আকাশে ভেসে আসতো তখন মানুষের কোলাহলে ঘুম ভেঙে যেত। কিন্তু আমি তারপরেও শুয়ে থাকতাম।
আজ আমি তোমার সেই ভালোবাসা মিশ্রিত বকুনি, স্পর্শ হতে দূরে...। ইচ্ছে হলেই কাছে যেতে পারি না। তোমাকে আলিঙ্গন করার মতো প্রশান্তি আর কিছুতেই নেই। তোমার সাথে উন্মুক্ত আলাপন আর হয় না। সারাদিন না খেয়ে থাকলেও কারো কিছুই আসে যায় না। এখানে সবাই চলছে আপন গতিতে। কারো কোন কিছুতেই যেন খোঁজ নেবার সময় নেই। সবাই এখানে আপন রাস্তার খোঁজে পথ চলে...। তবুও অনুভূতির কারো কোন কমতি হয় না; তা কেবলই নিজ পরিমণ্ডলে।
এই অস্বস্তিকর, দূষণময় শহরেও মা তোমাকে মনে পড়ে, তোমার স্পর্শ পেতে প্রতিক্ষীত হয়ে থাকে এই দেহমূর্তি। জীবন ঘষে প্রদীপ জ্বালাতে আমি আজ তোমার কাছ থেকে দূরে...। ইচ্ছে করলেই তোমার কোলে শুতে পারি না। জেনো, দীর্ঘ দিনের সম্পর্কহীনতা শোকের তীব্রতাকে ভোঁতা করে দিলেও তোমার প্রতি অনুভূতিগুলি কেবলই সজীব হয়ে উঠে; গাঢ় হয়... অধিকতর গাঢ়। ইট পাথরের জঙ্গল হতে তোমাকে জানাই অনেক ভালোবাসা, যে ভালোবাসা কখনো ফুরিয়ে যায় না। তোমাকে ভালোবাসি সেই শৈশবের মতোই। শুধু আজই নয়, আট হাজার সাতশত ছত্রিশ ঘন্টাই তোমাকে ভালোবাসি। আই লাভ ইউ মাই মাদার, আই লাভ ইউ, আই লাভ ইউ...
লেবেলসমূহ:
মুক্তগদ্য
শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১০
অবৈধ সঙ্গমে জন্ম
আমি দেশদ্রোহী হতে পারি অনায়াসেই
বিষাক্ত থাবায় চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে পারি মানচিত্র;
আমি প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে দিতে পারি লাশ।
কারণ, অবৈধ সঙ্গমে জন্ম যাদের কেবল
তাদের সাথেই আমরা সহবাস।
মানবতা নামক শব্দ আমার অভিধানে অনুপস্থিত।
কারণ, আমি মুছে ফেলেছি যাবতীয় সভ্য শব্দমালা
আর প্রতিস্থাপন করেছি খুন, ধর্ষণ, দেশদ্রোহ নামক শব্দ,
যে শব্দগুলি সভ্য মানুষের দ্বারা ঘৃণায় নিমজ্জিত হচ্ছে বহুকাল।
আমি বস্তি থেকে ডেকে এনে কিশোরের কোমল হাতে
ধরিয়ে দিতে পারি অস্ত্র।
আমার রক্তের ভেতরেও আজ খেলা করে দ্রোহ,
যে দ্রোহ পুড়িয়ে দিতে চায় সকল দেশপ্রেমিককে
আর সাজাতে চায় তার ইচ্ছেমতো স্বদেশ।
যে দেশে থাকবে না 'স্বাধীনতা' নামক কোন উজ্জ্বল হীরে;
সংবিধানে থাকবে না কোন মৌলিক অধিকার।
আমি নির্লজ্জভাবে প্রোথিত করে দিতে পারব ভ্রুণ
বিবাহিতা, অবিবাহিতা, বৃদ্ধা নির্বিশেষে সকলের জরায়ুতে।
সে দেশে জন্মগ্রহণ করবে হাজারো শিশু
বড় হবে ভোরের সৌন্দর্য অবলোকনের বদলে অবৈধ সঙ্গমের দৃশ্যে,
আর অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখবে...
অবৈধ সঙ্গমের ফসল হিসেবে বেরিয়ে আসা ধুঁকধুঁকে মাংসপিণ্ড।
বিষাক্ত থাবায় চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে পারি মানচিত্র;
আমি প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে দিতে পারি লাশ।
কারণ, অবৈধ সঙ্গমে জন্ম যাদের কেবল
তাদের সাথেই আমরা সহবাস।
মানবতা নামক শব্দ আমার অভিধানে অনুপস্থিত।
কারণ, আমি মুছে ফেলেছি যাবতীয় সভ্য শব্দমালা
আর প্রতিস্থাপন করেছি খুন, ধর্ষণ, দেশদ্রোহ নামক শব্দ,
যে শব্দগুলি সভ্য মানুষের দ্বারা ঘৃণায় নিমজ্জিত হচ্ছে বহুকাল।
আমি বস্তি থেকে ডেকে এনে কিশোরের কোমল হাতে
ধরিয়ে দিতে পারি অস্ত্র।
আমার রক্তের ভেতরেও আজ খেলা করে দ্রোহ,
যে দ্রোহ পুড়িয়ে দিতে চায় সকল দেশপ্রেমিককে
আর সাজাতে চায় তার ইচ্ছেমতো স্বদেশ।
যে দেশে থাকবে না 'স্বাধীনতা' নামক কোন উজ্জ্বল হীরে;
সংবিধানে থাকবে না কোন মৌলিক অধিকার।
আমি নির্লজ্জভাবে প্রোথিত করে দিতে পারব ভ্রুণ
বিবাহিতা, অবিবাহিতা, বৃদ্ধা নির্বিশেষে সকলের জরায়ুতে।
সে দেশে জন্মগ্রহণ করবে হাজারো শিশু
বড় হবে ভোরের সৌন্দর্য অবলোকনের বদলে অবৈধ সঙ্গমের দৃশ্যে,
আর অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখবে...
অবৈধ সঙ্গমের ফসল হিসেবে বেরিয়ে আসা ধুঁকধুঁকে মাংসপিণ্ড।
লেবেলসমূহ:
কবিতা
মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১০
অন্নের সন্ধানে
পুব আকাশে সূর্য জ্বলে উঠলে
আস্তে আস্তে অন্ধকার পালাতে থাকে।
তখন পাখিটির নিজস্ব সময়ের সাথে
আমারও সময় ঠিক করে নিই,
আমিও বেড়িয়ে পরি তার সাথে।
কিন্তু তফাৎ আমার সঙ্গে এই শুধু
সে ভাসতে পারে হাওয়ার ভেলায়,
অন্তত দিক-দিগন্তে পৌঁছার সীমাবদ্ধতা হতে মুক্ত।
তবে, সবচেয়ে যেখানে আমাদের বড্ড বেশী মিল
তা হচ্ছে, উভয়েরই অন্নের অভাব।
সে উড়ে যায় আর আমি হেঁটে যাই
একই লক্ষ্যে, শুধু ভিন্ন গন্তব্যে...
উভয়কেই ক্লান্তি গ্রাস করে
কিন্তু কাউকেই দমাতে পারে না।
আমাদের উভয়েরই জীবন বাধা পাকস্থলিতে
আমরা এটা ওটা আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করি
ফসকে যায়, আবার চেষ্টা করি...
একসময় দেখি অন্ধকার আমাকে ঘিরে ধরেছে
এখন আর কারো খোঁজ নেয়ার সময় নেই
এবার আমাকে বাঁচতে হবে...।
আস্তে আস্তে অন্ধকার পালাতে থাকে।
তখন পাখিটির নিজস্ব সময়ের সাথে
আমারও সময় ঠিক করে নিই,
আমিও বেড়িয়ে পরি তার সাথে।
কিন্তু তফাৎ আমার সঙ্গে এই শুধু
সে ভাসতে পারে হাওয়ার ভেলায়,
অন্তত দিক-দিগন্তে পৌঁছার সীমাবদ্ধতা হতে মুক্ত।
তবে, সবচেয়ে যেখানে আমাদের বড্ড বেশী মিল
তা হচ্ছে, উভয়েরই অন্নের অভাব।
সে উড়ে যায় আর আমি হেঁটে যাই
একই লক্ষ্যে, শুধু ভিন্ন গন্তব্যে...
উভয়কেই ক্লান্তি গ্রাস করে
কিন্তু কাউকেই দমাতে পারে না।
আমাদের উভয়েরই জীবন বাধা পাকস্থলিতে
আমরা এটা ওটা আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করি
ফসকে যায়, আবার চেষ্টা করি...
একসময় দেখি অন্ধকার আমাকে ঘিরে ধরেছে
এখন আর কারো খোঁজ নেয়ার সময় নেই
এবার আমাকে বাঁচতে হবে...।
লেবেলসমূহ:
কবিতা