আপানার দাড়ি-গোঁফ গজিয়ে বেঁকে গেছে
তার মানে এই নয় যে আপনি ভালো-মন্দ জানেন।
কী জানেন আপনি?
কী জানেন?
ভাবছেন সবই...
না, জানেন না।
জানেন শুধু স্ত্রীর উরুর উপর আরোহন করতে
গোলাপী ঠোঁটে চুম্বন করতে
কোমল স্তনকে খাঁমছে ধরতে
সমতল জরায়ুকে কিছু সময়ের জন্য ফুলিয়ে দিতে
এর বেশী আর কী জানেন আপনি?
আপনি চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী?
আপনার অনেক টাকা হয়েছে?
তাই বলে ভাববেন না যে আপনি সমাজসেবা করতে পারবেন।
আপনি কী করতে পারবেন?
ভাবছেন সবই...
না, পারবেন না।
পারবেন শুধু বস্তিতে গিয়ে
অনাহারী কয়েক শিশু-কিশেরারকে
আপনার অবৈধ টাকায় কয়েকটা জামা
আর একবেলা খাবার দিতে
পারবেন কয়েকটা ছবি তুলতে।
এর বেশী আপনি আর কিছুই পারবেন না।
বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন আপনি যে-
আগামীকাল থেকে বন্ধ করে দেব...?
আপনি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন? ভালো কথা-
আপনি কি এই অশিক্ষিত জনতার
হেঁ হেঁ, এই নিকৃষ্ট জনতার
দ্বারে দ্বারে ঘুরেন নি?
কাদা, দুর্গন্ধময় হাতে কি আপনার হাতের স্পর্শ লাগেনি?
কী হলো?
এই অল্প সময়েই ভুলে গেছেন?
এই অল্পতেই ভুলে যান বলেই তো আপনাকে
হ্যাঁ, আপনাকে-
প্রতি পাঁচ বছর শেষে
মানব সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে
অনর্গল মিথ্যে কথা আর প্রতিশ্রুতি দিতে হয়।
আপনি মসজিদের ইমাম কিংবা
মন্দিরের পুরোহিত সেজে গেছেন?
তাই বলে ভাববেন না যে
আপনি ধর্মের রক্ষক।
আপনি কী?
আপনি কে ফতোয়া দেবার?
আপনার কি বিবেক বলে কিছু আছে?
আপনি যতটুকু বলেন ততটুকু কি আপনি
হেঁ হেঁ, আপনি পালন করেন?
কী, আপনার ধর্মানুভূতিতে টান লেগে গেলো?
এতো সামান্যেই আপনার টান লাগে বলেই তো
ঘটে যায় বিপত্তি।
আপনি মুক্তমনের অধিকারী,
প্রচলিত ধর্মে বিশ্বাস নেই আপনার?
তাই বলে ভাববেন না যে আপনি প্রগতিশীল।
আপনি কি আসলেই মুক্তমনের অধিকারী
না ছদ্মবেশে মুক্তমনের ধ্বজাধারী?
কেবলমাত্র ব্যক্তিগত বিশ্বাসগুলিই কি আপনার কাছে
হেঁ, আপনার কাছে মুক্তমনের মাপকাঠি?
আপনি নিজেকে এতো জ্ঞানী ভাবেন বলেই তো
সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলা।
আপনি শ্রমিক-
আপনি যে কারখানায় কাজ করেন
যে চাকাগুলো আপনি সচল রাখেন
তার মানে জানেন তো?
আর আপনি-
হেঁ, আপনি
কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে
কাঁধে লাঙল নিয়ে গিয়ে যে জমি চষে এসেছেন
আপনি কি নিশ্চিত যে-
সঠিক সময়ে সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ পাবেন?
মুখ কালো করবেন না।
মাত্র তো শুরু করলেন
ফসল তোলার মৌসুম আসুক, তারপর...
প্রখর রৌদ্রকে যে আপনি জোছনা ভেবে
ঘামকে বরফের কনা ভেবে কাজ করবেন
আপনি কি ফসলের নায্য মূল্য পাবেন?
আপনার পরিবারের ভরণপোষণ ঠিকঠাক মতো চলবে তো?
আহা, কাঁদবেন না।
আপনি কাঁদলে ওদের গগনচুম্বী অট্টালিকা একের পর এক
নির্মাণ হবে কিভাবে।
কাঁদবেন না, আগামী বছরের জন্য অপেক্ষা করুন,
এবার চোখ মুছে ঘরে ফিরে যান।
ভাবছেন ভুল করেছেন?
না, ভুল করেন নি-
যখন কোন রাজনীতিকের তীব্র কণ্ঠস্বর মাইকে শুনতে পাবেন
তখন তো সব ভুলে কাজ ফেলে রেখে ঠিকই
দৌড়ে হাজির হবেন;
হুড়োহুড়ি করবেন সামনে বসার জন্য
কি, করবেন না?
তার চেয়ে বরং নিঃশব্দে ঘরে ফিরে যান।
এটুকু যে পেয়েছেন এটাই বা কম কিসে!
এর বেশী আমরা আর কি-ই বা পেতে পারি...
এই নষ্ট দেশে প্রতিদিনই জন্মে হাজারো শিশু
তারা বেড়ে উঠে এবং বেড়ে উঠে
তাদের সামনে উন্মোচিত হয় অপেক্ষার অপার দিগন্ত
সেই পরিধি অবারিত হয় আরও, আরও, আরও...
এই দেশের মানুষগুলো আর কিছু না পারুক
যুগ যুগ ধরে অপেক্ষা-ই করতে পারে শুধু।
তার মানে এই নয় যে আপনি ভালো-মন্দ জানেন।
কী জানেন আপনি?
কী জানেন?
ভাবছেন সবই...
না, জানেন না।
জানেন শুধু স্ত্রীর উরুর উপর আরোহন করতে
গোলাপী ঠোঁটে চুম্বন করতে
কোমল স্তনকে খাঁমছে ধরতে
সমতল জরায়ুকে কিছু সময়ের জন্য ফুলিয়ে দিতে
এর বেশী আর কী জানেন আপনি?
আপনি চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী?
আপনার অনেক টাকা হয়েছে?
তাই বলে ভাববেন না যে আপনি সমাজসেবা করতে পারবেন।
আপনি কী করতে পারবেন?
ভাবছেন সবই...
না, পারবেন না।
পারবেন শুধু বস্তিতে গিয়ে
অনাহারী কয়েক শিশু-কিশেরারকে
আপনার অবৈধ টাকায় কয়েকটা জামা
আর একবেলা খাবার দিতে
পারবেন কয়েকটা ছবি তুলতে।
এর বেশী আপনি আর কিছুই পারবেন না।
বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন আপনি যে-
আগামীকাল থেকে বন্ধ করে দেব...?
আপনি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন? ভালো কথা-
আপনি কি এই অশিক্ষিত জনতার
হেঁ হেঁ, এই নিকৃষ্ট জনতার
দ্বারে দ্বারে ঘুরেন নি?
কাদা, দুর্গন্ধময় হাতে কি আপনার হাতের স্পর্শ লাগেনি?
কী হলো?
এই অল্প সময়েই ভুলে গেছেন?
এই অল্পতেই ভুলে যান বলেই তো আপনাকে
হ্যাঁ, আপনাকে-
প্রতি পাঁচ বছর শেষে
মানব সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে
অনর্গল মিথ্যে কথা আর প্রতিশ্রুতি দিতে হয়।
আপনি মসজিদের ইমাম কিংবা
মন্দিরের পুরোহিত সেজে গেছেন?
তাই বলে ভাববেন না যে
আপনি ধর্মের রক্ষক।
আপনি কী?
আপনি কে ফতোয়া দেবার?
আপনার কি বিবেক বলে কিছু আছে?
আপনি যতটুকু বলেন ততটুকু কি আপনি
হেঁ হেঁ, আপনি পালন করেন?
কী, আপনার ধর্মানুভূতিতে টান লেগে গেলো?
এতো সামান্যেই আপনার টান লাগে বলেই তো
ঘটে যায় বিপত্তি।
আপনি মুক্তমনের অধিকারী,
প্রচলিত ধর্মে বিশ্বাস নেই আপনার?
তাই বলে ভাববেন না যে আপনি প্রগতিশীল।
আপনি কি আসলেই মুক্তমনের অধিকারী
না ছদ্মবেশে মুক্তমনের ধ্বজাধারী?
কেবলমাত্র ব্যক্তিগত বিশ্বাসগুলিই কি আপনার কাছে
হেঁ, আপনার কাছে মুক্তমনের মাপকাঠি?
আপনি নিজেকে এতো জ্ঞানী ভাবেন বলেই তো
সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলা।
আপনি শ্রমিক-
আপনি যে কারখানায় কাজ করেন
যে চাকাগুলো আপনি সচল রাখেন
তার মানে জানেন তো?
আর আপনি-
হেঁ, আপনি
কাকডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে
কাঁধে লাঙল নিয়ে গিয়ে যে জমি চষে এসেছেন
আপনি কি নিশ্চিত যে-
সঠিক সময়ে সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ পাবেন?
মুখ কালো করবেন না।
মাত্র তো শুরু করলেন
ফসল তোলার মৌসুম আসুক, তারপর...
প্রখর রৌদ্রকে যে আপনি জোছনা ভেবে
ঘামকে বরফের কনা ভেবে কাজ করবেন
আপনি কি ফসলের নায্য মূল্য পাবেন?
আপনার পরিবারের ভরণপোষণ ঠিকঠাক মতো চলবে তো?
আহা, কাঁদবেন না।
আপনি কাঁদলে ওদের গগনচুম্বী অট্টালিকা একের পর এক
নির্মাণ হবে কিভাবে।
কাঁদবেন না, আগামী বছরের জন্য অপেক্ষা করুন,
এবার চোখ মুছে ঘরে ফিরে যান।
ভাবছেন ভুল করেছেন?
না, ভুল করেন নি-
যখন কোন রাজনীতিকের তীব্র কণ্ঠস্বর মাইকে শুনতে পাবেন
তখন তো সব ভুলে কাজ ফেলে রেখে ঠিকই
দৌড়ে হাজির হবেন;
হুড়োহুড়ি করবেন সামনে বসার জন্য
কি, করবেন না?
তার চেয়ে বরং নিঃশব্দে ঘরে ফিরে যান।
এটুকু যে পেয়েছেন এটাই বা কম কিসে!
এর বেশী আমরা আর কি-ই বা পেতে পারি...
এই নষ্ট দেশে প্রতিদিনই জন্মে হাজারো শিশু
তারা বেড়ে উঠে এবং বেড়ে উঠে
তাদের সামনে উন্মোচিত হয় অপেক্ষার অপার দিগন্ত
সেই পরিধি অবারিত হয় আরও, আরও, আরও...
এই দেশের মানুষগুলো আর কিছু না পারুক
যুগ যুগ ধরে অপেক্ষা-ই করতে পারে শুধু।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন