বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১০

স্মৃতিস্তম্ভের সম্মুখে

একগুচ্ছ রক্তিম ফুল হাতে নিয়ে গিয়েছিলাম স্মৃতিস্তম্ভের সম্মুখে।
আমি ফুলগুলি বেদিতে রাখতেই
আচমকা ভেসে এলো সম্মিলিত কণ্ঠস্বর,
যেন ত্রিশ লক্ষ মৃত প্রাণ একসঙ্গে সঞ্চারিত হলো
সমস্ত ওষ্ঠ একত্রিত হয়ে উচ্চারণ করলো
ফিরে যাও, তুমি ফিরে যাও-
আমি নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।
তাঁরা আবারো একসঙ্গে শশব্দে উচ্চারণ করতে লাগলো
ফিরে যাও, ফিরে যাও-
তোমার হাতের ফুলগুলিতে সুমধুর গন্ধ নেই
আছে শুধু বিষাক্ত সৌরভ
তোমার কণ্ঠনালীতে আছে হায়নার স্বর
তোমার ঠোঁটে আছে তাজা রক্তের স্পৃহা
তোমার আঙুলে আছে নেকড়ের নখ
তোমার চোখে আছে শকুনেন দৃষ্টি
তোমার হৃদপিণ্ডে আছে কয়লার দাগ
তোমার পাকস্থলিতে আছে ক্ষুধার্ত মানুষের অন্ন।
তুমি ফিরে যাও, ফিরে যাও-
তুমি বেড়ে উঠেছ বিকৃত সময়ের গর্ভে
তুমি বেড়ে উঠেছ হরেক মুখোশের স্পর্শে
তুমি বেড়ে উঠেছ অস্ত্রের ঝন্ ঝন্ শব্দে
তুমি বেড়ে উঠেছ প্রতারণার জীবন্ত চিত্রে
তুমি বেড়ে উঠেছ মিথ্যে প্রতিশ্রুতি শুনে।
তুমি ফিরে যাও, তুমি ফিরে যাও-
তুমি টুকরো টুকরো করছ মানচিত্র
তুমি কলঙ্কিত করছ পবিত্র পতাকা
তুমি বিকৃত করছ ইতিহাস
তুমি কেড়ে নিচ্ছ ক্ষুধার্তের অন্ন।
ফিরে যাও, তুমি ফিরে যাও-
আর কোনদিন এসো না এই স্তম্ভের সম্মুখে
আর কোনদিন না, আর কোনদিন না...
পারলে সে দিন এসো-
যে দিন তোমার ফুলে থাকবে সুমধুর গন্ধ
যে দিন তোমার কণ্ঠনালীতে থাকবে সুতীব্র প্রতিবাদ
যে দিন তোমার আঙুলে থাকবে শুভ্র নখ
যে দিন তোমার ঠোঁটে থাকবে স্নেহময় চুম্বন
যে দিন তোমার চোখে থাকবে সুদৃষ্টি
যে দিন তোমার হৃদপিণ্ডে থাকবে ত্যাগ
যে দিন তোমার পাকস্থলিতে থাকবে ক্ষুধা।
অতঃপর আমি মাথা নিচু করে আস্তে আস্তে
সেই আগের পথেই পা বাড়িয়ে দিই...।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন