শুক্রবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১২

পরগাছা

পরগাছারা বেঁচে থাকে
ধিকৃত শব্দমালার আচ্ছাদনে
আকাশে একরাশ মেঘ নিয়ে
বর্ষা আসে অতঃপর শরৎ...
তবু নীলাভ সৌন্দর্য ওদের জন্য নয়;
শুধু হাজার বছরের বিবর্তন
বিকৃত চোখে ওদের ভ্রুকুটি করে।

দুর্ভেদ্য কারফিউ

টকশোতে আমন্ত্রিত রাজনীতিকদের মধ্যে
প্রতিদিন চলে অসমাপ্ত সংলাপ
দিন, মাস, বছর ফুরোয়
ক্ষমতার পালাবদল ঘনিয়ে আসে
শহরে উড়ে আসে বিপ্লবী বাতাস
মিছিলে মিছিলে ঠোঁটের কপাট খুলে
উঁকি দেয় উত্তেজিত জিব
রাস্তায় লেগে থাকে রক্তের দাগ
তবু মগজের চারপাশে দুর্ভেদ্য কারফিউ...

শুক্রবার, ১০ আগস্ট, ২০১২

ধূসর প্রতিবিম্ব

রুক্ষ অরণ্যে তৃষিত হরিণ
খুঁজে ফেরে জলের ধারা
চিতাবাঘের দল-
বিষন্ন নিঃশ্বাস ফেলে ঘাসের বুকে
উষ্ণতায় বিবর্ণ হয় রঙ
ঝাঁ ঝাঁ রোদ্দুরে বেলা-অবেলায়
হেঁটে যায় ক্লান্ত পথিক

প্রত্যূহ প্রদোষ

বেদের নৌকা
জলের বুক চিরে ধাবমান...
পাতিহাঁসের দল
শামুকের প্রেমে ভুলেছে পথ;
গোধূলিলগ্নে মৃত বৃক্ষের ডালে
বসে আছে বিষণ্ন শালিক।

বৃহস্পতিবার, ৭ জুন, ২০১২

বিষণ্নতার গান

প্রতিটি পথের শেষ প্রান্তে
ধূলোয় মোড়ানো থাকে বিষণ্নতা;
আমরা ব্যস্ত রাখি-
চোখ ও চায়ের কাপ।
নদীর জলে ভাসমান কচুরিপানারা
গন্তব্যহীন। পতঙ্গের সঙ্গীতায়োজন
সাঙ্গ করে ধূম্রকূপ।
সুরম্য প্রাসাদের কাঁচের জানালায়
ঝুলে থাকে অর্থহীন বৃষ্টিবিন্দু।

অবস্থান

আমি তাকিয়ে দেখি-
আকাশে প্রজ্বলিত সূর্যের অবস্থান
যা পরিবর্তিত হয় দ্রুত।
তবু চোখের ভেতর ভরে রাখি বৃষ্টি
আর শস্যের ভেতর রোদ।

নিঃসঙ্গ চিল

শূণ্যে আলোর খণ্ড ঝুলে আছে
মেঘেরা পরস্পরকে
আবদ্ধ করছে আলিঙ্গনে
            •••
শুভ্রতার অপরূপ সৌন্দর্য
ক্রমে পরিবর্তিত হয়
কালোর চুম্বনে
            •••
ভাবনাগুলো সর্বদাই স্বাধীন
এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্তে
অবরোধের সীমা ডিঙিয়ে
             •••
মিশে থাকে-
নীড়ে ফেরা পাখির চোখে
দিনের সমস্ত রঙ
             •••
বৃক্ষের শিকড়ে জমা
দীর্ঘ ক্লান্তি
মুছে দেয় ইঁদুর
             •••
প্রতিক্ষার ক্ষণ
দীর্ঘতর হয়
হাওয়া ও ঢেউয়ের উল্টোদিকে

বিপর্যস্ত

সময়ের পিঠে আরোহণ
অতঃপর ক্রমাগত দৃশ্য
বিপর্যস্ত প্রশ্নোত্তর।

নীলিমায় কবুতর উড়ে যায়-
দ্রুত খসে পড়ে পালক।
বাতাসে ধূলোর রাজত্ব...
দলে দলে দলছুট
কাঁটায় শোভিত পথ;
ঘাসের বুকে শিশিরের বদলে
দ্যুতি ছড়ায় রক্তবিন্দু।
বজ্রের শব্দের নীচে
চাপা পড়ে কান্না...

মদ্যপ ও বেশ্যার একটি রাত

১.মদ্যপ যখন ঘরে ফিরল
রাত তখন একটা পয়ত্রিশ মিনিট।
আলকাতরার মতো অন্ধকার ভেদ করে
ঘরে ফিরতে ইদানিং তার একটু দেরি হয়ে যায়;
কয়েকদিন ধরে রাতের আকাশে
ঘোর অমাবস্যা বিরাজমান-
তাই রাতের প্রথম প্রহরেই
চারপাশ হয়ে যায় জনশূণ্য, নির্জন।

২.
আজ সে সঙ্গে এনেছে এক বেশ্যা-
তার কামার্ত হৃদয়, তৃষিত ঠোঁট
পরিভ্রমণ করবে বেশ্যার স্তন, জানু, যোনি
সে-কথা ভেবেই ও শিহরিত হয়।
তার উত্তেজিত জিহ্বার ভেতর হতে
বেরিয়ে আসে সঞ্চিত লালা
সেই লালায় সিক্ত হয় বেশ্যার দেহ।

৩.যখন রাত্রির নিকষ কালো অন্ধকার
হারিয়ে যেতে লাগলো শুভ্রতার গর্ভে
তখন সে সাঙ্গ করলো কামনার আদিম চর্চা
আর বেশ্যা তার স্তনে, ঠোঁটে ও গালে
রক্তিম চিহ্ন নিয়ে ক্রমাগত পায়ে
নিজ গন্তব্যের দিকে চলে গেলো।

৪.অতঃপর সূর্যের কিরণে যখন চতুর্দিক শুভ্রময়
তখনো তাদের মনে স্থান পায়নি কোনো অপরাধবোধ,
রাজনীতিবিদ, নারীবাদী, অর্থনীতিবিদ আর ধর্মগুরুদের মতো
জলের ধারায় গা ধুয়ে
তারাও মিশে গেলো একই সামাজিকতায়...

তুমি শুনছ শব্দাবলি

১.
তোমার সংবেদনশীন কর্ণে
অদৃশ্য হাওয়া সর্বদাই বয়ে নিয়ে আসা
শব্দগুলোকে তোমার কর্ণদোয়ার হতে
মস্তিস্কে পৌঁছে দেয়;
আর তুমি ইচ্ছে হলে
ক্ষুধার্ত বকের মতো
নিমগ্নচিত্তে উপলব্দি করো
এর অন্তর্মুখ ও বহির্মুখ।

২.
তুমি দেখতে পাও প্রচুর শব্দের উৎপত্তিস্থল,
যদিও এর সবগুলি তোমার অনুধাবণকৃত নয়।
কোনোটিকে তুমি কেবলমাত্র
নিজের জন্য মনোনীত করো;
আর অধিকাংশ শব্দগুচ্ছের আত্মচিৎকার
প্রতিধ্বণিত হয়ে তার নিজের কাছই ফিরে আসে।

৩.শব্দরা বড়ো বেশী বৈচিত্রময়-
কখনো পতিত করে প্রেমে
কখনো অসম্ভব শূণ্যতায়
সুতীব্র ঘৃণায়...

৪.কিছু শব্দ তোমাকে আন্দোলিত করে
সমুদ্রে আঘাতকৃত হাওয়ার মতো
জাগিয়ে তোলে তোমার অকল্পনীয়
সীমাহীন শক্তিশালী ঘুমন্ত সত্তাকে
তুমি মৃত্যুর জন্যও প্রস্তুত হও
সম্মুখ সমরে অগণিত সৈনিকের মাঝে
যেমন বীরদর্পে দাঁড়িয়ে থাকে
সহযোদ্ধা হারানো এক সেনাপতি

৫.অনেক শব্দের বুকে
জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয় অন্ধকার।
দীর্ঘ সময় পরে-
এদের কিছু কিছু আলোর দেখা পায়
বাকিরা অন্ধকারের গর্ভেই হারিয়ে যায়।

৬.কখনো কখনো কিছু শব্দ
তেমার জিহ্বাকে উত্তেজিত করে
দাবানলের মতো জ্বলে,
চোখের ভেতর হতে বেরিয়ে আসে উত্তাপ;
আবার কখনো কখনো ধূপছায়ার স্তুপ
একের পর এক সারিবদ্ধ হয়
তোমারই অক্ষির সম্মুখে...

৭.কিছু শব্দ তোমাকে অনিয়ন্ত্রিত জগতের
সংস্পর্শ হতে বের করে আনে
শর্করাপুষ্ট স্রোতস্বীনী নদীর তীরে
অনন্তের উর্ধ্বমুখী আলোর ফোয়ারায়...