শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৩

ফিলিস্তিন

কয়েকটি বিমান -
ফিলিস্তিনের আকাশে হাওয়া খাচ্ছে ;
শিশুরা খেলছে বাড়ির উঠোনে।
তখনো পশ্চিমাকাশে স্পষ্ট হয়নি
বর্ণিল গোধূলির রেখা।
ওদের খেলা শেষ হবার পূর্বেই
আচম্বিতে ধোঁয়ায় ঢেকে গেলো
তৈরি ধূলোর পাহাড়!

বর্ণ-বিবর্ণ

অক্টোবরের মধ্যভাগ -
যুবক-যুবতীরা ঘর ছেড়ে বেরোচ্ছে
ঘন্টা-দুয়েক পরেই শহরজুড়ে
আছড়ে পড়বে সন্ধ্যার ঢেউ
হ্যুড খুলে রিকশা থেকে নেমে
পার্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছে তারা;
যেখানে বিষাদবাদী ফেড্রাসের
সাহিত্যরস পূর্ণতা পায়।
এরিক্সিমেকাসের প্রেম প্রশস্তি
আবর্তিত হয় চক্রাকারে।
আমি পিচঢালা পথ শেষে
চিলেকোঠায় ফিরে যাই,
ধূলোজমা আয়নার কাছে গিয়ে
দেশলাই জ্বেলে আবিষ্কার করি
ধূসর প্রতিচ্ছবি।

ধূপছায়া

ধানক্ষেতের পাড় ঘেঁষে
একেবেঁকে বহু দূরে চলে গেছে
স্বচ্ছ জলের ধারা
যেন এক পরিব্রাজক
চারপাশে ছড়িয়ে দিয়েছে-
স্বস্তি আর আর্তনাদ।
তবু ছাইরঙা নীরবতার ওপারে-
গৃহবাসী স্বপ্নগুলো ক্রমশ
হামাগুড়ি দেয় রোদেলা শরতের পিঠে...

নিমজ্জন

রাত ঘন হয়ে আসে -
সমস্ত স্তব্ধতা ভেঙে সুনিপুণভাবে
জেগে ওঠে শারীরবৃত্তীয় কবিতার শব্দমালা।
আঙুলের ফাঁকে জোনাকির মতো দৃশ্যমান
সিগারেট হতে হৃদপিণ্ড শুষে নেয় মাদকতা;
দূরে ল্যাম্পপোষ্টের ম্রিয়মান আলোতে
চলে পতঙ্গের সমবেত সঙ্গীত ...

দৃশ্য

শান্ত কাকটির চারপাশে
অদ্ভুতরকম পায়চারি করে -
একজোড়া বুনো মাছি।
একটি টিকটিকি অপরটিকে
সঙ্গমের জন্য ধাওয়া করে
অদূরে বসে থাকা শালিকটি
একটিকে ধরে উড়ে যায় পশ্চিমে...

পেয়ালাগ্রস্থ বিষাদ

ধরো হেমলকের পেয়ালা
স্বর্গীয় সুধা ভেবে কণ্ঠ ভেজাও
অথবা যদি চাও অগ্নিজল
তাও পারো; প্রেমের সুনিপুণ বিষাদ
মেশানো আছে পেয়ালাদ্বয়ে...

পাখি ও পতঙ্গ

শহরের ধূলো জমা কাঁচের জানালায়
নিভৃতে ঝুলে থাকা সাহারার রুক্ষতাকে -
মেঘমালা হতে খসে পড়া
শুভ্র বৃষ্টিবিন্দুগুলো মুছে দেয়।
মুছে দেয় পিঁপড়ের শরীরের দুর্গন্ধ
যা পিচঢালা পথ বেয়ে নেমে যায় স্যুয়ারেজে।
বাতাসের তোড়ে জানালার এক কোনে
মাকড়সার চক্রাকার গৃহটির বুননে চিড় ধরে,
কিছু ঘাসফড়িং এর চারপাশে
দীর্ঘক্ষণ একটানা নেচে যায়।
দূরে ল্যাম্পপোষ্টের পাশে থাকা ডাস্টবিনে
স্তুপকৃত পঁচা খাদ্যকণাগুলো -
মিলেমিশে খেয়ে চলে কাক ও কুকুর।
একটি চড়ুই পাখি ছানাগুলি বুকে নিয়ে
ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে এই দৃশ্য দেখে ...

ঝাপসা

ভাবনাগুলো অস্থিরতায় লুটোপুটি খায়
শহরের পিচঢালা পথের বুকে
স্থান করে নেয় গাঁয়ের ধূলো
               •••
যাত্রীবাহী সব চক্রযান
মাইলফলকগুলোকে অতিক্রম করে
অশ্রু ঝুলে থাকে চোখের কার্ণিশে
               •••
মেঘেরা নিঃশব্দে চলে যায়
কর্মব্যস্ত মানুষেরা বন্দী হয়
তপ্ত রোদের খাঁচায়
               •••
মৃত বৃক্ষের ডালে
উড়ে এসে দাঁড়কাক বসে
কাদার ওপর হামাগুড়ি দেয় শামুকেরা
               •••
মাছিটাকে পিঁপড়েরা টেনে নিচ্ছে
পরিত্যক্ত বাড়িটির একটি সুরঙ্গে
পেঁচা ও বাদুড়ের বাস
               •••

আগন্তুক

এখন আমি আয়নায় যা দেখি -
সত্যিই কি তা আমার মুখ?
আমার কণ্ঠস্বর এখনো কি আমার?
তপ্ত চৈত্রের বৃষ্টিতে গজিয়ে উঠা
আগাছার মতো বেড়ে উঠেছে শ্বাপদেরা।
বাতাসে সুগন্ধির বদলে -
তারা মিশিয়ে দিচ্ছে বারুদের গন্ধ।
দশ দিকেই দেখি আজ তাদের
রহস্যময় আশ্চর্য অনুভূতির মিনার!
চক্রাকারে চব্বিশটি বসন্ত কাটিয়ে
তবে কি আমি আজ আগন্তুক?

শেষ রাতের ট্রেন

শেষ রাতের ট্রেন
আচমকা ঘুমন্ত গ্রামের বুক -
বিদীর্ণ করে ছুটে যায়।
গাছের ডালে ডালে
বাদুড়ের উল্লাস
ব্যাস্ত পর্যটক
পৌঁছে যায় গন্তব্যে ...

আত্মনিয়ন্ত্রণ

আত্মনিয়ন্ত্রণ ভেঙে গেলে -
অতঃপর যৌনপল্লীগুলো মুখরিত হয় ;
পরভৃতের ঠোঁটে তৃষ্ণার স্পর্শ ঘনীভূত
ধূসর মৃত্তিকাকে অতিক্রম করে মেঘদল
বিক্ষিপ্ত ভাবনাগুলো -
মিশে যায় ঝিঁঝির কোরাসে ...

রবিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৩

শৈত্য প্রবাহে

উত্তরের হাওয়া গ্রাস করেছে জনপদ।
আকাশে ঠান্ডায় জমে গেছে মায়াবী চাঁদ;
গাছেরা ভিজে জড়সড়। তবু রাতের রঙ গায়ে মেখে
গাছে গাছে উড়ছে বাদুড়ের ঝাঁক।
পরিযায়ী পাখিরা দল বেধে
আন্দোলিত করে চলেছে শান্ত জলাধার।
অদূরে কুঁড়েঘরে গ্রাম্য নবদম্পতির উত্তপ্ত নিঃশ্বাসে পরাস্থ শীত!
ওদিকে মোরগের গলায় ভর করে দরোজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দেয় ভোর।
জানালার গ্রীলে লেগে থাকে কুয়াশার চুম্বন.....